চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে রোববার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ডনকে আটক করে। পরে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুপুরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
সিআইডি জানিয়েছে, সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ডন গত বছরের ২১ অক্টোবর মামলা হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। রোববার সকালে তিনি সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন বলে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করার সময় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়। পরে সিআইডি তাঁকে হেফাজতে নেয়।
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ডন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রেখে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছিল।
তদন্ত কর্মকর্তার আশঙ্কা ছিল, জামিনে মুক্তি পেলে তিনি তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন এবং আবারও আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
সালমান শাহের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর গত বছর তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, আশরাফুল হক ডন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ব্যক্তিকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে হত্যা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তবে এগুলো রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ও মামলার অভিযোগ, এখনো আদালতে প্রমাণিত নয়। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রমাণের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে তদন্ত হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদনের পর আদালত মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে রমনা থানায় নতুন করে হত্যা মামলা করা হয়।
বর্তমানে আলোচিত মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ কয়েক দফা পিছিয়েছে।
সর্বশেষ আদালত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
আদালতের আদেশের পর আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত এখনো চলমান।
সূত্র: আরটিভি
আরও পড়ুন:







