News Ticker
সর্বশেষ
অর্থসংকটে থমকে যাওয়া চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ফাতেমার পাশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ৮ হাজার মুসলমান হত্যার নেতৃত্ব দেওয়া ‘বসনিয়ার কসাই’ রাটকোর মৃত্যু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে ডন বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে একযোগে কাজ করছে: চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ৩৩২
221.png

ইতালিতে নিহত একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশির নোয়াখালীতে দাফন সম্পন্ন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৪৬

শেয়ার

শেয়ার

ইতালিতে নিহত একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশির নোয়াখালীতে দাফন সম্পন্ন
ছবি: সংগৃহীত

ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ মাগরিব উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তাঁর স্ত্রী এবং পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা (৫)। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে আমির হোসেন অয়ন চৌধুরী। তিনি চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যদের মরদেহ সঙ্গে নিয়ে ইতালি থেকে বাংলাদেশে ফেরেন এবং স্বজনদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে উপস্থিত হন।

গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রাজধানী রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবুল, তাঁর স্ত্রী ও শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ছেলে অয়নকেও উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রাথমিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। অয়নও হামলায় আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার পর ইতালীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস ১৯ দিন পর শুক্রবার সকালে তিনজনের মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহগুলো নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

এর আগে ইতালির স্থানীয় সময় ১১ আগস্ট রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস জানান, বাবুল ছিলেন পরিবারের পাঁচ বোনের একমাত্র ভাই। দেশে এলে তিনি আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে যাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাকে এখনো আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ রয়েছে।

ইতালীয় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

একই পরিবারের বাবা, মা ও পাঁচ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে হারিয়ে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। অন্যদিকে গুরুতর আহত ছেলে অয়ন পরিবারের তিন সদস্যকে হারানোর বেদনা নিয়ে দেশে ফিরেছেন।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জানাজা ও দাফন শেষে এখন পরিবারের একটাই প্রত্যাশা—ইতালিতে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

ChannelNRB Footer