নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের আকাশে ড্রোনটি শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, IRGC-এর অ্যারোস্পেস ফোর্স পরিচালিত একটি নতুন উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটি শনাক্ত ও ধ্বংস করে। ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি।
হরমোজগানে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি
IRGC-এর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন তৈরি এমকিউ-৯ ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়।
হরমোজগান প্রদেশ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির সঙ্গে এ অঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ফলে এখানে সামরিক নজরদারি ও ড্রোন কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এমকিউ-৯ ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মনুষ্যবিহীন আকাশযান। দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতার কারণে এটি মার্কিন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংঘাতে এই ড্রোনগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে ইরানও একাধিক মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে। গত মাসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ শহরের ওপর আরেকটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছিল IRGC।
চলতি সংঘাতে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংসের দাবি নতুন নয়। জুলাই মাসেও ইরান একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংসের কথা জানিয়েছিল। মে মাসে IRGC আরও একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার পাশাপাশি একটি RQ-4 ড্রোন ও একটি F-35 যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল বলে দাবি করেছিল।
এদিকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ ড্রোন বহরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন হারিয়েছে। তবে মোট ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে।
নতুন এই দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা তীব্র। এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে সেখানে সামরিক ড্রোন বা যুদ্ধবিমান ধ্বংসের প্রতিটি ঘটনাই বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইরানের দাবি সত্য হলে এটি হবে চলমান সংঘাতে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনr বহরের ওপর আরেকটি বড় আঘাত।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
আরও পড়ুন:







