টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে দীঘিনালা উপজেলায় মাইনী নদীর পানি বেড়ে কয়েকটি ইউনিয়নের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলের মাঠে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রবল বর্ষণের পর মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
দীঘিনালা উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বেয়োলখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি প্রতিবেদনে প্রায় ৫০০ পরিবার এবং অন্য একটি প্রতিবেদনে প্রায় ৮০০ পরিবার পানিবন্দি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রকৃত সংখ্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি ও গাছপালা পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে দীঘিনালা-মেরুং সড়কের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা সড়ক থেকে ধসের মাটি ও গাছপালা সরানোর কাজ করছেন।
পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার আমন ধানের ক্ষেত। আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং প্লাবিত এলাকার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকস্মিক এই বন্যায় খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে পানি বাড়তে থাকলে সড়ক যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন:







