News Ticker
221.png

রংপুরে ৪ খুন: গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৮

শেয়ার

শেয়ার

রংপুরে ৪ খুন: গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সোমবার (৩১ আগস্ট) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে হত্যাকাণ্ডের রাতে দুই আসামি ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে তাদের বন্ধু সীমান্ত চন্দ্র দাসের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তথ্য উঠে আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের অংশ হিসেবে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেয় পুলিশ। তবে পরীক্ষার ফলাফলে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। 

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুই আসামিকে কারাগার থেকে বাইরে না এনে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারেই তাদের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল কারাগারে যায়। তাদের সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজের একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী ছিলেন। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর কারাগারেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরাপত্তাঝুঁকি ও বাইরে নিয়ে গেলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় কারাগারের ভেতরেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ কারণে তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। 

তদন্তে তাদের বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বন্ধু সীমান্ত চন্দ্র দাসও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তার জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ইয়াবা সেবনের তথ্য উঠে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছিল।

এই তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং হত্যার সময় আসামিরা মাদকাসক্ত ছিলেন কি না, তা জানতে ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পরীক্ষায় মাদকের কোনো অস্তিত্ব না পাওয়ায় বিষয়টি তদন্তে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চলছে। দুই আসামির ডিএনএ পরীক্ষার পাশাপাশি ময়নাতদন্তের তথ্য, আদালতে দেওয়া জবানবন্দি এবং সাক্ষীদের বক্তব্যও যাচাই করা হচ্ছে। 

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধ বা গলায় ফাঁস দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

ChannelNRB Footer