News Ticker
221.png

নুসরাত হত্যা মামলার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০০

শেয়ার

শেয়ার

নুসরাত হত্যা মামলার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১১২ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২৪ আগস্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। 

হাইকোর্ট যে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন, তারা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

অন্যদিকে, নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি—এই চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি অথবা তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার যথেষ্ট ভিত্তি নেই। 

খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন—কামরুন নাহার মনি, হাফেজ মোহাম্মদ আবদুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম-২, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবসার উদ্দিন ও মাকসুদ কাউন্সিলর।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এসেছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, হাইকোর্ট মনে করেছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ আসামিকে একইভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ছিল বিচারিক বিবেচনার ঘাটতির পরিচায়ক।

এই পর্যবেক্ষণের পর সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদকে ফৌজদারি মামলার বিচার ও সাজা প্রদানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর মামলা তুলে নিতে নুসরাতের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে একটি ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তিনি মারা যান। 

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। 

দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় মামলাটিতে ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেন। 

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সও হাইকোর্টে আসে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন।

ChannelNRB Footer