ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর আলোচনায় থাকা মনিরুল হাওলাদারের মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে তালা ঝুলছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হামলার আশঙ্কায় মনিরুলের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি গ্রামে মনিরুলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির ঘরগুলোর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তবে তারা কোথায় গেছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ইতালিতে অবস্থানরত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক লাইভে তাঁর ওপর হামলার অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইতালির মেস্ত্রে এলাকায় কয়েকজন বাঙালি তাঁকে শারীরিকভাবে হয়রানি করেন। এ সময় তাঁর শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয়, ফোন ফেলে দেওয়া হয় এবং কানের পাশে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাঁধনের দাবি, হামলাকারীরা তাঁর জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং তাঁকে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে বাধ্য করেন। পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাদের বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের নিয়েও আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মনিরুল হাওলাদার মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত শাজাহান হাওলাদারের ছেলে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সকালে তাঁর মা ও ভাই বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, সামাজিক ক্ষোভ বা হামলার ভয়ে পরিবারটি আত্মগোপনে গেছে। তবে এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মনিরুলকে ধুরাইল ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে তাকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও জানা গেছে, মনিরুল প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান। স্থানীয় এক স্বজনের বরাতে একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশি অভিনেত্রীর সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে বিদেশে কোনো বাংলাদেশির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন:







