News Ticker
221.png

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৩৩

শেয়ার

শেয়ার

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হয়ে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে; একজন শিশু এখনো অজ্ঞাতপরিচয়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির উপ-পরিচালক জাকিউল ইসলাম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের ওপরের অংশে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের চেয়ে ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া এবং তা থেকে সৃষ্ট আতঙ্কই বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সিঁড়িতে প্রচণ্ড ভিড় ও হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হলে কয়েকজন নিচে পড়ে যান এবং তাদের ওপর দিয়ে অন্যরা যাওয়ার সময় পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—

  • হাজেরা বেগম, বয়স ৫০ বছর
  • শাহজাহান, বয়স ৪০ বছর
  • রমজান, বয়স ৩৮ বছর
  • জাহানারা, বয়স ৫০ বছর
  • কুলসুমা, বয়স ৩৫ বছর
  • অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশু

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অতিরিক্ত উত্তাপ বা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার পর প্রচুর ধোঁয়া বের হয়ে ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও ধোঁয়ার কারণে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর হাসপাতালের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হয়। 

অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের নতুন ভবনের জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ভবনের একাধিক সিঁড়ি জরুরি সময়ে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত না থাকায় রোগী ও স্বজনেরা সীমিত পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এর ফলে সিঁড়িতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়ে পদদলিত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের উৎস, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ পুরো ঘটনা তদন্ত করা হবে।

ChannelNRB Footer