News Ticker
221.png

অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:১১

শেয়ার

শেয়ার

অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একজন আটক
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। 

অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় একদিন পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবারের প্রাথমিক বক্তব্যে অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি। এ কারণে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়াকে হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে হত্যার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

ছেলের নিখোঁজের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ধান চেয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম। সেখানে তিনি জানান, অপ্রতীম বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি এবং তার সঙ্গে থাকা ফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। 

অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে স্বজনরা শোকাহত।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, হত্যার উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

ChannelNRB Footer