News Ticker
221.png

‘কাকা, এখানে একটা বাচ্চা পড়ে আছে’ - গহীন বাঁশঝাড়ে যেভাবে পাওয়া গেল অপ্রতীমের নিথর দেহ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০০

শেয়ার

শেয়ার

‘কাকা, এখানে একটা বাচ্চা পড়ে আছে’ - গহীন বাঁশঝাড়ে যেভাবে পাওয়া গেল অপ্রতীমের নিথর দেহ
ছবি: সংগৃহীত

বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১৩ বছরের অপ্রতীম। এরপর আর ফেরেনি সে। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর শনিবার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পশ্চিম সানন্দা এলাকায় একটি ঝোপঝাড়পূর্ণ বাঁশবাগান থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল সে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মো. আব্দুল কাদির জিলানী জানান, শনিবার সকালে তারা ওই এলাকায় কাজ করছিলেন। কাজের প্রয়োজনে বাঁশ সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে থাকা এক ভাতিজা হঠাৎ তাকে বলে, ‘কাকা, এখানে একটা বাচ্চা পড়ে আছে।’

এরপর কাছে গিয়ে তারা অপ্রতীমকে পড়ে থাকতে দেখেন। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে রক্তের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি দেখে তারা ভয় পেয়ে সেখান থেকে চলে যান।

কিছুক্ষণ পর তারা জানতে পারেন, ওই এলাকায় একটি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। তখন তারা স্থানীয়দের জানান, বাঁশঝাড়ের ভেতরে একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেছেন। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে অপ্রতীমের মরদেহ দেখতে পান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে।

সন্তানের সন্ধান না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের সন্ধানে সহযোগিতা চান অপ্রতীমের মা।

মা জানান, নিখোঁজ হওয়ার সময় অপ্রতীমের পরনে পাঞ্জাবি ছিল। ফোন নম্বর ট্র্যাক করেও তখন তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের পর অপ্রতীমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালান।

পরে ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকার ঝোপঝাড়ের মধ্যে তার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহ উদ্ধারের পর অপ্রতীমের মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, কখন বা কারা তাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে অপ্রতীমের পরিবার। শুক্রবার বিকেলে যে সন্তানকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় রাতভর অপেক্ষা করেছিলেন মা-বাবা, শনিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধারের খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপ্রতীমের মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে।

ChannelNRB Footer