News Ticker
221.png

ফ্যানে ঝুলছিলেন স্বামী, মেঝেতে পড়েছিল স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১০

শেয়ার

শেয়ার

ফ্যানে ঝুলছিলেন স্বামী, মেঝেতে পড়েছিল স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে একই ঘর থেকে এক প্রবাসী, তাঁর স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বারাহীরচর এলাকার একটি বন্ধ ঘর থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—সৌদিপ্রবাসী একরাম হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) এবং তাঁদের দেড় বছর বয়সী মেয়ে আলিজা আক্তার। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান একরাম। শনিবার বেলা বাড়লেও ঘর থেকে কেউ বের না হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।

একপর্যায়ে ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের লোকজন ডাকাডাকি করেন। পরে ঘরের টিনের বেড়ার একটি অংশ কেটে ভেতরে তাকালে একরামকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। একই ঘরে তাঁর স্ত্রী ও শিশুকন্যার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে একরাম তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একরাম প্রায় দুই মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তিনি বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যে বিরোধ হতো বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণার সঙ্গে একমত নন নিহত প্রিয়াঙ্কার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং একরামের পরিবারের কয়েকজন সদস্য এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।

প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান বলেন, মেয়ের সঙ্গে একরামের বড় কোনো সমস্যা ছিল বলে তিনি জানতেন না। তাঁর অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। 

প্রিয়াঙ্কার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী জানিয়েছেন, তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।

ChannelNRB Footer