ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, কারখানা চত্বরে একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম বিস্ফোরণের পর পরপর কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। এতে কারখানা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরে যায় এবং কারখানার বিভিন্ন স্থানের কাচ ভেঙে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত সাতজনের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ কাভার্ড ভ্যানের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপর একজন নারী কারখানার বাইরে সিলিন্ডারের আঘাতে নিহত হন।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে ওই নারীকে মোসাম্মৎ জয়নব বেগম (৫৫) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি কারখানার বাইরে অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের সময় একটি গ্যাস সিলিন্ডার ছিটকে গিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
কাভার্ড ভ্যান থেকে উদ্ধার করা মরদেহগুলোর কয়েকটি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকজন দগ্ধ ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
আহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম দিকের প্রতিবেদনে ১৪, ২০ এবং আরও বেশি আহতের তথ্য প্রকাশিত হয়। ফলে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত হিসাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আপডেটের ওপর নির্ভর করছে।
খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাতের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিস্ফোরণের সময় কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দ্রুত কারখানা এলাকা থেকে বের হয়ে আসেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল ভবনের ভেতরে শ্রমিক আটকা পড়ার ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিস্ফোরণের শব্দ বেশ দূর থেকেও শোনা যায়। আগুনের ধোঁয়া ও শিখা দেখে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে ঠিক কী কারণে সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন ও খালাসের সময় যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:







