রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রাইভেটকারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম (২৪) নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোর আজান আলী শরীফকে সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে কিশোরের জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়েছে।
পুলিশ ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম।
এ সময় একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর মামলায় আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে গাড়িটির চালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলাটি করেন। এজাহারে আকাশ মারকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে তদন্তে কিশোর আজান আলী শরীফের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারের চালকের আসনের দরজা খুলে আজান বের হয়ে আসেন। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার প্রাথমিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার আজানকে আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে আইনজীবী মো. আলমগীর হোসেন জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মো. আরিফীন ইসলাম তাকে সংশোধনাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আজানের পক্ষে করা জামিন আবেদনে আরও দাবি করা হয়, স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ৯ লাখ টাকা নগদ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ কিশোরটির সম্পৃক্ততা শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। পরে তাকে গুলশানের বাসা থেকে আটক করা হয় এবং শিশু আইনে আদালতে পাঠানো হয়।
মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত এখনো চলছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণে আসলে কে ছিলেন এবং কীভাবে গাড়িটি ফুটপাতে উঠে যায়—তদন্ত শেষে এসব বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন:







