News Ticker
221.png

৯ হাজার মুখোশ ও বিস্ফোরকসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০১

শেয়ার

শেয়ার

৯ হাজার মুখোশ ও বিস্ফোরকসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও ককটেল তৈরির সরঞ্জামের পাশাপাশি ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। 

পুলিশের তথ্যমতে, ইমন লালবাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া। 

পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সমন্বিতভাবে তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের। এর ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সহযোগিতায় বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহারের জন্য রাখা বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • ১ কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা

  • ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার

  • ৫ কেজি মার্বেল

  • ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা

  • ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল কস্টেপ

  • ১১টি কালো কস্টেপ

  • কাগজের তৈরি ৯ হাজার মুখোশ

  • মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক

  • উপাদান গুঁড়া করার কাজে ব্যবহৃত একটি ব্লেন্ডার

  • একটি ব্লেন্ডারের জার

উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলোর মধ্যে মুখোশের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—মোট ৯ হাজার। 

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া কাগজের মুখোশগুলো বিভিন্ন সময়ে মিছিলের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। বিশেষ করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে এগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা উপকরণ ব্যবহার করে ককটেল তৈরির পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ আরও জানায়, ইমনের বাসায় আরেক ব্যক্তি যাতায়াত করতেন এবং ওই ব্যক্তি বিস্ফোরকজাতীয় উপাদান গুঁড়া করে ককটেল তৈরির কাজ করতেন বলে ইমন পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানানো হয়নি।

রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর সঙ্গে ইমনের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, পুলিশের কাছে তাঁর সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে। তবে ইমন জিজ্ঞাসাবাদে বিস্ফোরক ও মুখোশগুলো নিজে তৈরি করেননি বলে জানিয়েছেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহিদ হাসান ইমনের বিরুদ্ধে এর আগে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ বলছে, যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়েই ইমনের নাম সামনে আসে। পরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।

উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকসদৃশ উপকরণ, মুখোশ এবং অন্যান্য আলামত কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে এর যোগসূত্র আছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। 

ChannelNRB Footer