পটুয়ালীর আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে মাছ ধরতে গিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে ১৫ জেলেসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তবে কাছাকাছি থাকা অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের সহায়তায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের ১৫ জেলেকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ট্রলারটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ডুবে যাওয়া ট্রলারটির নাম এমবি মায়ের দোয়া-৬। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গভীরে বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ট্রলারের মাঝি মূসা জানান, সকালে আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে ১৫ জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে রওনা হন তারা। কিছুদূর যাওয়ার পর সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। এ সময় বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারের তলা বা কাঠামো ফেটে যায়।
ফাটল দিয়ে দ্রুত ট্রলারের ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করলে সেটি ডুবতে থাকে। একপর্যায়ে জেলেরা ট্রলার ছেড়ে সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে কাছাকাছি থাকা অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১৫ জেলের কেউ হতাহত হননি। উদ্ধারকারী ট্রলারের সহায়তায় সবাইকে নিরাপদে তুলে নেওয়া হয়।
কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গভীর সমুদ্রে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ট্রলারটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান জানান, ট্রলারটি চলতি বছর নতুন করে তৈরি করা হয়েছিল এবং এর নির্মাণে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়। দুর্ঘটনার আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েক দিন ট্রলারটি বন্দরে নিরাপদে রাখা হয়েছিল। আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসার পর শনিবার সকালে মাছ ধরার জন্য সেটি সাগরে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পর জেলেরা উদ্ধার হলেও ট্রলারটির অবস্থান এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে মালিকপক্ষ জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়েও বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে মাছ ধরতে গিয়ে একাধিক ট্রলার দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। চলতি সেপ্টেম্বরেও পটুয়াখালী ও বরগুনা উপকূলসংলগ্ন এলাকায় ট্রলারডুবি ও জেলেদের উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় ১৫ জেলে প্রাণে বেঁচে গেলেও মাছ ধরার ট্রলারটি হারিয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সমুদ্রে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও ঢেউয়ের তীব্রতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মাছ ধরার সময় সতর্কতা অবলম্বনের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন:







