শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের পাশে নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্প এলাকায় একদল লোক হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজের কার্যালয়ের পাশাপাশি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওও ছিল।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জায়গা নিয়ে বিরোধের জের ধরে একটি পক্ষ ওই এলাকায় দখল নিতে গেলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সালমানের স্টুডিও হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল না; জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মধ্যে স্টুডিওটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টুডিওর ক্যামেরা, আসবাব, অন্যান্য সরঞ্জাম ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার সময় সেখানে থাকা কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে নিউগিনি প্রপার্টিজের করা মামলায় প্রকল্প এলাকায় নগদ অর্থ, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরা, পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় মোট ক্ষয়ক্ষতি ও চুরি যাওয়া মালামালের উল্লেখযোগ্য আর্থিক মূল্য দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির হামলার পেছনে চাঁদাবাজির আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে ঘটনাটিকে চাঁদাবাজির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
ডিএমপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিউগিনি প্রপার্টিজ ও পাশের জমির মালিকদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে। ক্যান্টনমেন্ট জোনের পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে।
রোববার বিকেল পর্যন্ত পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শাহরিয়া মাহমুদকে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া এবং মামলার এক নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য তিনজন হলেন মো. মামুন, আসলাম ও মুন্না।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ঘটনাটির পেছনে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃতি, হামলায় কারা অংশ নিয়েছিল এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার হবে।
আরও পড়ুন:







