News Ticker
221.png

দুই দশক পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরছে বিপজ্জনক রাসায়নিক কনটেইনার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪০

আপডেট: ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫০

শেয়ার

শেয়ার

দুই দশক পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরছে বিপজ্জনক রাসায়নিক কনটেইনার
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই দশক ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী বিপজ্জনক রাসায়নিক অপসারণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৯টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এসব রাসায়নিক ধ্বংস করা হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের উদ্যোগে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় রাসায়নিকবাহী কনটেইনারগুলো বন্দরের ইয়ার্ড থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের উদ্দেশে পাঠানো হয়। কাস্টমসের ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে পুলিশ প্রহরায় এসব কনটেইনার পরিবহন করা হচ্ছে। 

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে পাঠানো ৯টি কনটেইনারের মধ্যে সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, মিথানল ও থিনার রয়েছে। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে সালফিউরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিড, পাঁচটি কনটেইনারে মিথানল এবং দুটি কনটেইনারে থিনার রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কাস্টমস হাউস চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার মো. রাসেল আহমেদ জানান, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের কনটেইনার জট কমানোর লক্ষ্যে এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে অপসারণ করা রাসায়নিকগুলো ২০০৩ সাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ দশমিক ৫৫ টন সালফিউরিক অ্যাসিড, ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিড, ৯২ দশমিক ৫৪ টন মিথানল এবং ৩২ দশমিক ৩০ টন থিনার। 

আমদানির পর বিভিন্ন কারণে এসব পণ্য খালাস হয়নি। এর সঙ্গে মামলা ও অন্যান্য আইনি জটিলতাও যুক্ত হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কনটেইনারগুলো বন্দরের ইয়ার্ডে পড়ে থাকে।

দীর্ঘদিন ধরে বিপজ্জনক রাসায়নিক বন্দরে পড়ে থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে পুরোনো কনটেইনার ও রাসায়নিক দীর্ঘ সময় সংরক্ষণে থাকলে দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম থেকে নেওয়া রাসায়নিকগুলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া এলাকার ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের মাধ্যমে পরিবেশসম্মত ও নিয়মানুগ পদ্ধতিতে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে কাস্টমস। 

রাসায়নিক পরিবহনের সময় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিবহন ও ধ্বংস প্রক্রিয়ায় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংখ্যা শুধু প্রথম ধাপের ৯টি কনটেইনারেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন আটকে থাকা আরও কনটেইনার পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক তথ্যেও দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক পণ্য ও কনটেইনারের বিষয়টি উঠে এসেছে। গত আগস্টে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছিল, বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে বিপজ্জনক রাসায়নিকসহ বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত পণ্য পড়ে রয়েছে এবং কিছু পণ্য দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে। 

বিপজ্জনক রাসায়নিক অপসারণ ও ধ্বংসের এই কার্যক্রমে বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (BNACWC), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার ব্যাটালিয়নসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সহযোগিতা করছে। 

ChannelNRB Footer