হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং এক নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১ অক্টোবর সৌদি আরবের মদিনা থেকে ওমরা শেষে বাংলাদেশে ফেরেন জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি দল ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় যাত্রীদের চাপের কারণে ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে যান। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান এবং হুমকি দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণ না করার জন্য নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন কয়েকজনকে অনুরোধ করেন। এ সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে আখতারুজ্জামান অশোভন আচরণ করেছেন এবং অন্য যাত্রীদের জমজমের পানির বোতর/পাত্র ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা বা প্ররোচনা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার কথা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে আদালত পাঁচ দিনের পরিবর্তে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শুক্রবারই বিমানবন্দর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এর আগে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:







