News Ticker
221.png

রংপুরে ৪ খুন: নমুনা পরীক্ষায় আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৪৩

শেয়ার

শেয়ার

রংপুরে ৪ খুন: নমুনা পরীক্ষায় আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামতের সঙ্গে মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে করা পরীক্ষায় ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের নমুনার সঙ্গে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা খেজুর, শসা ও সিগারেটের অংশে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে তাদের ডিএনএ মিলে গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে মোট ৩৫টি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগসহ বিভিন্ন নমুনা ছিল। নিহত শিশু প্রিয়মের খাতায় পাওয়া একটি লেখাও আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছিল। 

এর আগে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য গত ২১ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল ও নিহতদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ তুলনা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। 

ডিএনএ পরীক্ষার ফল হাতে আসার আগে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, শুধু পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবে না। এখন পরীক্ষায় আলামতের সঙ্গে দুই আসামির ডিএনএ মেলার তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ হিসেবে যুক্ত হলো।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কয়েক দিন যোগাযোগ না হওয়া এবং বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর স্বজনেরা বিষয়টি জানতে পারেন। 

গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। ঘটনার পর তাঁর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের জবানবন্দির বিভিন্ন তথ্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক আলামত ও অন্যান্য তদন্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে দুই আসামির ডোপ টেস্টেও মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আগস্টের শেষ দিকে পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের নমুনা পরীক্ষায় মাদকের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়নি।

ChannelNRB Footer