News Ticker
221.png

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে নিহত ১০, একই পরিবারের ৮ জন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৩

শেয়ার

শেয়ার

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে নিহত ১০, একই পরিবারের ৮ জন
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটোয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে রিসোর্টটির বড় অংশ পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকালে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার পর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। তিনতলা ভবনটির বেশির ভাগ অংশ কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুনের তীব্রতায় ভেতরে অবস্থানরত পর্যটকেরা বিপাকে পড়েন। কেউ কেউ বের হতে পারলেও কয়েকজন ভেতরে আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং উদ্ধার অভিযান চালিয়ে রিসোর্টের ভেতর থেকে একে একে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন রয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা এবং চুয়াডাঙ্গার এক বাসিন্দা রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

তবে উদ্ধার হওয়া সব মরদেহের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, রিসোর্টটি গত জুনে পরিদর্শন করে অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা ও নোটিশ দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি চালু ছিল। প্রয়োজনীয় ফায়ার সেফটি লাইসেন্স ও সনদ না থাকার বিষয়টিও তিনি জানিয়েছেন।

তিনতলা রিসোর্টটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। ভবনটির কাঠের কাঠামো আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধান ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রিসোর্টটির অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজার দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানকার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে অবস্থান করেন। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি নির্গমনপথ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণে নির্মিত স্থাপনায় অগ্নিঝুঁকি মূল্যায়ন, নিয়মিত পরিদর্শন এবং কার্যকর জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

ইনানীর এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানি পর্যটন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তদন্তে আগুনের প্রকৃত কারণ ও কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা উঠে এলে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

ChannelNRB Footer