News Ticker
221.png

পঞ্চম দিনেও রাজপথে পোশাক শ্রমিকরা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৬

শেয়ার

শেয়ার

পঞ্চম দিনেও রাজপথে পোশাক শ্রমিকরা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো রাজপথে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজলক্ষ্মী এলাকায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে ১৯ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

সংঘর্ষের সময় শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টার দিকে উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কয়েকটি স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তাঁরা কসাইবাড়ি রেলগেট, জামতলা রেলগেট, আজমপুর রেলগেট এবং জসিমউদ্দিনের হলি ল্যাব মোড় এলাকায় সমবেত হন।

সকাল ১১টার দিকে শ্রমিকেরা উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়ক থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের একাংশ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং শিল্প পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সদস্যরা আহত হন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিমের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংঘর্ষে ১৯ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং এক পুলিশ সদস্যের হাত ভেঙে যাওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছেন।

পোশাকশ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং ন্যূনতম মাসিক মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন।

বকেয়া বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বর্তমান আয় দিয়ে সংসার চালানোর চাপও আন্দোলনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের কারণে উত্তরার কয়েকটি পোশাক কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। টানা তিন দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার পর ওই এলাকার পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, বেতন পরিশোধ এবং উৎপাদন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজলক্ষ্মী ও আশপাশের এলাকায় শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে আন্দোলন অব্যাহত থাকলে সড়কে আবারও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

ChannelNRB Footer