News Ticker
221.png

প্রাণ বাঁচাতে রিসোর্টের দরজা-জানালা ভেঙে বের হন পর্যটকরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৯

শেয়ার

শেয়ার

প্রাণ বাঁচাতে রিসোর্টের দরজা-জানালা ভেঙে বের হন পর্যটকরা
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে দরজা-জানালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেন পর্যটকেরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে রিসোর্টের ভেতরে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ দরজা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ জানালার কাচ ভেঙে কিংবা ওপরের তলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন।

মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটোয়ারটেক এলাকার রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন রয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। রিসোর্টটির কাঠের কাঠামোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় ভেতরে অবস্থানরত পর্যটকেরা নিরাপদে বের হওয়ার জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কয়েকজনকে দরজা ও জানালার কাচ ভেঙে বাইরে বের হতে হয়।

রিসোর্টের দোতলায় আটকে পড়া এক দম্পতি প্রাণ বাঁচাতে পাশের নালায় লাফ দেন। তাঁদের এ অভিজ্ঞতা অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও উদ্ধারপথের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে এনেছে।

টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টটি মেরিন ড্রাইভের পাশে সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন পাটোয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত। রিসোর্টটির তিনতলা ভবন এবং কাঠের তৈরি কাঠামো আগুনের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। আগুনে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরও ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। একে একে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন থাকার খবর ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হলেও সব মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছিল।

আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। আগুন লাগার উৎস, অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জরুরি নির্গমনপথের পর্যাপ্ততা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বক্তব্যের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আগে অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এ তথ্য সামনে আসার পর পর্যটনকেন্দ্রের হোটেল ও রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটকদের থাকার জায়গায় পর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমনপথ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, কার্যকর অ্যালার্ম এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন থাকা জরুরি। আগুন লাগলে যাতে মানুষ দ্রুত ও নিরাপদে বের হতে পারেন, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

কক্সবাজার দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্ট ও হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত যাচাই এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

ইনানীর এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। 

ChannelNRB Footer