News Ticker
221.png

মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অস্ত্র ব্যবহার, যা বললেন ডিবি প্রধান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪৯

আপডেট: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:১৩

শেয়ার

শেয়ার

মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অস্ত্র ব্যবহার, যা বললেন ডিবি প্রধান
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের কর্মকাণ্ড তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তদন্তে আইনের কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিবি প্রধান জানান, ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে। তিনি পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেবেন। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে একজন প্রতিমন্ত্রী সরাসরি পুলিশের মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি ডিবি প্রধান।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা-৬ সংসদীয় আসনের গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ ও ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

অভিযানের বিভিন্ন দৃশ্য তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কয়েকজনকে ধাওয়া করছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়।

অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে আটক করার পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে দেখা যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর একজন জনপ্রতিনিধির অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনা এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন দাবি করেছেন, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ এবং আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি সেটি ব্যবহার করেছিলেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

প্রতিমন্ত্রীর আরও বক্তব্য, অভিযানের সময় তাঁদের দিকে ৩০ থেকে ৩৫ জন এগিয়ে আসায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা অস্ত্র বের করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

ইশরাক হোসেনের ভাষ্য, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তাঁর সংসদীয় এলাকাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে ঘটনাটি যথাযথ প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন।

তবে প্রতিমন্ত্রীর এসব বক্তব্য তাঁর নিজস্ব দাবি। অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি এবং এর আইনগত দিক তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদক বিক্রির আস্তানা ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় মাদকদ্রব্য, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, নগদ টাকা এবং সন্দেহভাজন চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে।

অভিযানে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গেন্ডারিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

অর্থাৎ, উদ্ধার করা পদার্থের প্রকৃতি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার আগে সেগুলোকে নিশ্চিতভাবে হেরোইন হিসেবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না। একইভাবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগও আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, মাদক বিক্রির বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বারবার অভিযোগ পাওয়ার পরও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ ওই এলাকায় আগেও অভিযান পরিচালনা করেছে এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিপুলসংখ্যক সদস্য নিয়ে অভিযান চালানো হয়েছিল। ফলে এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্য—দুই দিকই তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

এ ঘটনায় একদিকে মাদকবিরোধী অভিযান কতটা কার্যকর হচ্ছে, অন্যদিকে আইন প্রয়োগের দায়িত্ব কার—সেই প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ডিএমপির তদন্ত প্রতিবেদনে অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি, আইনগত সীমা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ChannelNRB Footer