News Ticker
221.png

টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর আরও একজনের দেহাবশেষ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২৪

শেয়ার

শেয়ার

টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর আরও একজনের দেহাবশেষ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রিসোর্টটির দ্বিতীয় তলার ধ্বংসস্তূপ থেকে দেহাবশেষটি উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।

ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষটি অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ থাকা স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন জাহান মুক্তার। তাঁর স্বামী দেওয়ান ফয়সাল দেহাবশেষটি তাঁর স্ত্রীর বলে দাবি করেছেন। তবে পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে মঙ্গলবার সকালে আবারও সমন্বিত অভিযান শুরু হয়। পরে বিকেলে দ্বিতীয় তলার ধ্বংসস্তূপ থেকে কঙ্কালসদৃশ দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা মুক্তার সন্ধানে রিসোর্টের ধ্বংসাবশেষ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অংশ নেন।

মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জানান, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ তিনি দেখেছেন। গলায় থাকা সোনার চেইন দেখে তিনি সেটিকে তাঁর স্ত্রীর দেহাবশেষ বলে শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেন।

এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে শ্যামলীর একটি পরিবারের চার সদস্য এবং বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার আরেক পরিবারের ছয় সদস্য ছিলেন। আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক উপায়ে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন জাহান মুক্তার নাম ছিল। উদ্ধার হওয়া আগের ১০টি মরদেহের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তাঁর স্বজনদের নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

মুক্তা ঢাকার আশুলিয়ার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে এসে তিনি কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার নতুন করে দেহাবশেষ উদ্ধারের পর তাঁর পরিবারে তাঁকে ফিরে পাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।

গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত কাঠের তৈরি টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। আগুনে রিসোর্টটির বড় অংশ পুড়ে যায়। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন।

ঘটনার পর প্রথম পর্যায়ে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বজনদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নতুন করে তল্লাশি শুরু হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

ChannelNRB Footer