নির্বাচনের মাঠে ছিলেন একে অপরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। ভোটের লড়াই শেষে ফলাফল ঘোষণার পর সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে পাশে রেখে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের দুই রাজনৈতিক নেতা। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর পরাজিত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের বাসায় ফুলের তোড়া ও মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরের দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া এলাকায় দেলাওয়ার হোসেনের বাসায় যান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন। এ সময় দুই নেতা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সৌজন্য সাক্ষাতে মির্জা ফয়সল আমীন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর ঠাকুরগাঁও গড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনে তাঁরা দুজনই জনগণের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই নির্বাচনের পর এলাকার উন্নয়নে পরস্পরের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি। কোনো কাজে ভুল হলে সরাসরি তা ধরিয়ে দেওয়ার জন্যও দেলাওয়ার হোসেনকে অনুরোধ জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জামায়াতের এই নেতা তাঁকে সহযোগিতা করবেন।
জবাবে জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন মির্জা ফয়সল আমীনকে অভিনন্দন জানান। তাঁকে বড় ভাই সম্বোধন করে তিনি আগামীর ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য এখন শুধু বিএনপি বা ধানের শীষের প্রতিনিধি নন, তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সব মানুষের প্রতিনিধি। তাই দল-মত নির্বিশেষে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
সৌজন্য সাক্ষাতের সময় নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগও তুলে ধরেন দেলাওয়ার হোসেন। তিনি বলেন, যারা সহিংসতা চালায়, তারা কোনো দলের হতে পারে না। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে নির্বাচনী সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ঢালাও অভিযোগ না করে কোথায় কী ঘটেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করবেন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেবেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
আরও পড়ুন:







