News Ticker
221.png

তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া সেই তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:১২

শেয়ার

শেয়ার

তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া সেই তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনিম দিশাকে (১৯) চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঘটনার দিন রাতে উত্তরার একটি বার ও রেস্টুরেন্টে তাহসিফের সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে সিসিটিভি ফুটেজে। মামলার রহস্য উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতের এ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য, প্রযুক্তিগত উপাত্ত এবং বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জেরিকা তাসনিম দিশার নাম সামনে আসে।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে তাহসিফের সঙ্গে দিশাকে দেখা যায়। একই দিন সন্ধ্যায় সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস এবং একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাদের একসঙ্গে অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ ও দিশা মোটরসাইকেলে করে নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছান তাহসিফের পরিচিত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ।

পরে তিনজনকে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে দেখা যায়। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা বের হয়ে যান।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় এর আগে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে তার সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেছিলেন দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ যেসব তথ্য দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন।

পরে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন তদন্তকারীরা। সিসিটিভি ফুটেজ, পরিবারের অভিযোগ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তদন্ত ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় পরিচিত জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাত গভীর হলেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

পরিবারকে তিনি জানিয়েছিলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসায় ফিরবেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তার মোবাইল ফোন থেকে মায়ের কাছে মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস বার্তাও পাঠানো হয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’।

কিন্তু এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন।

তাহসিফের মৃত্যুর আগে তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

ChannelNRB Footer