ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে শ্রম অসন্তোষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ৩১৮টি পোশাক কারখানা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, এসব কারখানা থেকে কাজ না করেই বেরিয়ে এসেছেন ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া ও জিরানীসহ পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ২ হাজার ১৩৪টি পোশাক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮১৬টি চালু থাকলেও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ রয়েছে ৩১৮টি।
শ্রমিকদের প্রধান দাবি, পোশাকশ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ ছাড়া চাকরির ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে এবং পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও কিছু শ্রমিক অভিযোগ করেছেন।
বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মজুরি বাড়াতে হবে।
শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে পোশাকশিল্পের জন্য নতুন ছয় সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। ৩১ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ বোর্ড গঠনের উদ্যোগের কথা জানান। ১ নভেম্বর বোর্ড গঠনের ঘোষণা আসে।
সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
রোববার রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে মিরপুর-১০ এলাকায় শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে এই খাত থেকে। এ শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন।
দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে রপ্তানি আদেশ, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং শিল্পের সামগ্রিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন:







