ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে গেম খেলার অভ্যাস শেষ পর্যন্ত গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ফেলেছে অভিনেত্রী শাকিলাকে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহারের কারণে ঘাড়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। চিকিৎসার পেছনে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
অভিনেত্রী শাকিলার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বিছানায় কাত হয়ে মোবাইল ফোনে গেম খেলতেন তিনি। দিনের পর দিন একই ভঙ্গিতে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস ধীরে ধীরে তার ঘাড়ে গুরুতর সমস্যা তৈরি করে।
একপর্যায়ে শারীরিক অসুবিধা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ঘাড়ের শিরা-সংক্রান্ত জটিলতা ধরা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।
শাকিলা জানিয়েছেন, তার চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরও তিনি পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।
বর্তমানে ঘাড়ে কলার পরে থাকতে হচ্ছে তাকে। দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজেও অন্যের সহায়তা নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে শাকিলা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য গ্যাজেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন বা গ্যাজেট ব্যবহার করতে না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করেছেন তিনি।
তার মতে, মোবাইল ফোন বিনোদন ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই প্রয়োজনের বাইরে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার না করাই ভালো।
দীর্ঘ সময় মোবাইলের দিকে ঝুঁকে বা অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকলে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে একই অবস্থানে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে পেশি ও মেরুদণ্ডের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সরকারের ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টারও অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে।
নিজের কষ্টকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শাকিলা মূলত একটি বিষয়েই জোর দিয়েছেন—মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। বিশেষ করে বিনোদনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম খেলা বা একই ভঙ্গিতে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
অভিনেত্রীর এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মোবাইল ও গেমিংয়ের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে সতর্ক হচ্ছেন অনেকেই।
শাকিলা বিশেষভাবে অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেছেন, শিশুদের হাতে অকারণে মোবাইল বা অন্যান্য গ্যাজেট তুলে না দিতে। ছোট বয়স থেকেই অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি হলে তা ভবিষ্যতে শারীরিক ও আচরণগত নানা সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরও পড়ুন:







