পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না পেলে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি। তিনি দাবি করেছেন, ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত।
১৩ আগস্ট রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে দেওয়া বক্তব্যে আফ্রিদি বলেন, পিটিআইয়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদমুখী লং মার্চে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবে।
ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আফ্রিদিসহ পিটিআই নেতারা আদিয়ালা কারাগারে গেলে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
আফ্রিদির বক্তব্য অনুযায়ী, ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বারবার তাদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ঘটনাকে তিনি শুধু একজন নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয় হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন।
আফ্রিদি বলেন, পিটিআইয়ের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে এবং তরুণদের একটি বড় অংশ আন্দোলনে যোগ দিতে প্রস্তুত। তাঁর দাবি, ২০ লাখের বেশি মানুষ রাজপথে নামার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে যে সমাবেশ হবে, সেখানে মানুষ কতটা সংখ্যায় এবং কী ধরনের উদ্দীপনা নিয়ে অংশ নেয়, তা তখনই দেখা যাবে।
পিটিআই ইতোমধ্যে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদমুখী লং মার্চের কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর পরিবার, চিকিৎসক ও দলীয় নেতাদের সাক্ষাতের সুযোগ এবং কারাবন্দি নেতার বিষয়ে দলের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচি সামনে এসেছে।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ কারাবাস পাকিস্তানের রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি করেছে। পিটিআই নিয়মিত তাঁর মুক্তি এবং তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
আফ্রিদির সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়া পিটিআইয়ের আন্দোলনকে আরও জোরালো করতে পারে। ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি বাস্তবে কত বড় আকার ধারণ করবে এবং সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
তবে পিটিআই নেতারা শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক পথে আন্দোলনের কথা বললেও পাকিস্তানের অতীত রাজনৈতিক বিক্ষোভের অভিজ্ঞতার কারণে বড় জমায়েতকে ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কাও রয়েছে।
সূত্র: ডন
আরও পড়ুন:







