ইতালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনায় মামলা করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভেনিসের পিয়াচ্ছা লে রোমা পুলিশ স্টেশনে গিয়ে তিনি মামলা করেন। এ সময় প্রায় তিন ঘণ্টা থানায় অবস্থান করেন এই অভিনেত্রী।
মামলা দায়েরের সময় ইতালিতে বাংলাদেশের মিলান কনস্যুলেটের প্রতিনিধিরা বাঁধনের সঙ্গে ছিলেন। ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওচিত্রও ইতালীয় পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে বলেও কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার পর মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন জানিয়েছিলেন, আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে তিনি ভেনিস ছাড়বেন না।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কয়েকজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সব প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে।
বাঁধন আরও জানান, ঘটনার পর ইতালির পুলিশ তাঁকে সহযোগিতা করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। পরে বাংলাদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের সহায়তায় থানায় গিয়ে মামলা করেন তিনি।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে ইতালিতে থাকা বাঁধন অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি এলাকায় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় একদল ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করেন।
তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁর গায়ে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারেন। একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোনও ফেলে দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদেরও ধাক্কাধাক্কির শিকার হতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একদল ব্যক্তিকে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়তে এবং তাঁকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা যায়। বাঁধনের অভিযোগ, তাঁকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে কটূক্তি করা হয় এবং রাজনৈতিক স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।
বাঁধনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তাঁর সক্রিয় অবস্থানের কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ফেসবুক লাইভে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, আন্দোলনের সময় দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করেন।
তবে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ইতালীয় পুলিশের তদন্তের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে তদন্তাধীন বিষয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর ইতালিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাঁদের সহায়তায় থানায় গিয়ে মামলা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা বাঁধনের সঙ্গে থানায় গিয়ে মামলা সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার ভিডিও পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে।
ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষও। বাঁধন উৎসবের আমন্ত্রিত অতিথি হওয়ায় তাঁর ওপর হামলার বিষয়টি আয়োজকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উৎসব কর্তৃপক্ষ বাঁধনকে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কয়েক দিন ভেনিসে থাকার সুযোগ দিয়েছে এবং তাঁর নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
মামলার তদন্ত চলাকালে প্রয়োজনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বাঁধনকে আবার ভেনিসে যেতে হতে পারে। এ বিষয়ে ইতালীয় পুলিশ তাঁর সহযোগিতা চেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাঁধনও প্রয়োজনে আবার ভেনিসে এসে তদন্তে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন।
বর্তমানে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। উৎসব শেষে তাঁর বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে। তবে ইতালিতে দায়ের করা মামলার তদন্ত পরবর্তী সময়ে চলমান থাকবে।
আরও পড়ুন:







