News Ticker
221.png

‘বড় নেতারা আরামে বিদেশে ঘুরছেন, বিচার হলে আপনার পরিবারই সাফার করবে’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৭

শেয়ার

শেয়ার

‘বড় নেতারা আরামে বিদেশে ঘুরছেন, বিচার হলে আপনার পরিবারই সাফার করবে’
ছবি: সংগৃহীত

ইতালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার পর দেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন থাকতে পারে, কিন্তু ‘দলকানা’ হওয়া উচিত নয়। কোনো অপরাধ বা সহিংস ঘটনায় বিচার হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবার—অন্যদিকে বড় নেতারা দেশে-বিদেশে তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফেরেন বাঁধন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতালিতে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা, দেশের ভাবমূর্তি এবং রাজনৈতিক উসকানির অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন তিনি।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, রাজনৈতিক দলকে ভালোবাসা বা সমর্থন করা যেতে পারে। তবে দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখানো উচিত নয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার হলে তার প্রভাব পরিবারের ওপরও পড়তে পারে। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা—রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে নিজের পরিবার ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাঁধনের ভাষ্য, ‘আজকে আপনার বিচার হলে আপনার পরিবার সাফার করবে।’ তিনি আরও বলেন, বড় বড় নেতারা আরামে দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন; বিদেশে অবস্থান করেও কেউ কেউ অডিও ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কর্মীদের উসকে দিচ্ছেন বলে তাঁর অভিযোগ। 

বাঁধন বলেন, বিদেশে থাকা অনেক বাংলাদেশি কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জন করেন এবং সেই অর্থ দেশে পরিবারের কাছে পাঠান। ফলে কোনো রাজনৈতিক সংঘাত বা সহিংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব শুধু ব্যক্তির ওপর নয়, তাঁর পুরো পরিবারের ওপর পড়তে পারে।

তাঁর অভিযোগ, যারা কর্মীদের বিভিন্নভাবে উসকে দিচ্ছেন, তাঁদের জীবনযাপন সাধারণ কর্মীদের মতো নয়। তাই রাজনৈতিক নির্দেশ বা উসকানিতে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়ানোর আগে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন।

সেখানে মেস্ত্রে শহরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় কয়েকজন বাংলাদেশির হাতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। বাঁধনের দাবি, হামলাকারীরা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করেন এবং তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

বাঁধন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তিনি ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেছেন। ঘটনার পর বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। 

ইতালিতে হামলার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বাঁধন।

তাঁর ভাষ্য, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিরাই যদি আরেক বাংলাদেশির ওপর হামলা করেন, তাহলে ওই দেশের মানুষের কাছে বাংলাদেশের নাগরিকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। তিনি এমন আচরণকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন।

বাঁধন বলেন, তিনি মনে করেন হামলাকারীরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে বা চাপে ফেলে পার পেয়ে যাবেন—এমন ধারণা করা ঠিক নয়। বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে হামলাকারীরাই আইনি ও সামাজিকভাবে সমস্যায় পড়তে পারেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশেও বক্তব্য দেন বাঁধন। তিনি বলেন, দলটি একটি বড় রাজনৈতিক দল এবং ভবিষ্যতে তাদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ থাকতে পারে। তাই এখন থেকেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।

তাঁর আহ্বান, এমন কোনো রাজনৈতিক রূপরেখা তৈরি করা উচিত নয়, যার কারণে ভবিষ্যতে দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে লজ্জিত হতে হয়।

ইতালির ঘটনা নিয়ে কথা বলার সময় নিজের সিনেমার টিমের আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন বাঁধন। তাঁর দাবি, ঘটনার পর অনেকেই সহযোগিতা করলেও তাঁর নিজের টিম তাঁকে ‘ডিজওন’ করেছে।

তিনি আরও জানান, টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের কার্যক্রম থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে তাঁর এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট টিমের বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। 

ChannelNRB Footer