News Ticker
221.png

‘যে নদী মরু পথে’র নায়িকা নাসিমা খান মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৯

শেয়ার

শেয়ার

‘যে নদী মরু পথে’র নায়িকা নাসিমা খান মারা গেছেন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন ষাট ও সত্তরের দশকের এই অভিনেত্রী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সূত্রে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন নাসিমা খান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নাসিমা খানের প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হলো। ষাটের দশকে ঢাকার চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয়দক্ষতা ও স্বতন্ত্র উপস্থিতির মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এই অভিনেত্রী।

নাসিমা খানের অভিনয়জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ‘যে নদী মরু পথে’। ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা আনিস, যিনি পরবর্তী সময়ে খান আতা নামেও পরিচিতি পান।

ছবিটি তাঁকে দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে। পরবর্তী সময়ে একাধিক বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন তিনি।

নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৯ সালে, ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ছবির মাধ্যমে। এ জে কারদার পরিচালিত চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা অর্জন করেছিল।

একই বছর উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’তেও অভিনয় করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন নাসিমা খান।

তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’। বিভিন্ন সময়ে দেশের খ্যাতিমান অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন তিনি।

ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেছেন নাসিমা খান। সে সময় ঢাকার চলচ্চিত্রশিল্প যখন নিজস্ব পরিচয় তৈরি করছিল, তখন যেসব শিল্পী তাঁদের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিলেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

চলচ্চিত্রে কাজের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কাজের ক্ষেত্র বদলালেও শিল্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় ছিল।

তাঁর অভিনয়জীবনের শেষদিকের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘কুসুম কুসুম প্রেম’। ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

নাসিমা খানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মীরা তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে কাজের স্মৃতি তুলে ধরেছেন।

ChannelNRB Footer