ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, দাবানল ও চরম আবহাওয়ার পর এবার আবহাওয়াবিদদের নতুন উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শক্তিশালী এল নিনো (El Niño)। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী কয়েক মাসে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি ও ঝড়ের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের বহু দেশে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস ও পর্তুগালের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। তীব্র গরমের পাশাপাশি ভয়াবহ দাবানল, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হতে পারে।
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এটি বৈশ্বিক বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। যদিও এটি একটি প্রাকৃতিক চক্র, বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর প্রভাব এখন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী -
- দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু এলাকায় খরার আশঙ্কা রয়েছে।
- ইউরোপের কিছু অংশে অতিবৃষ্টি ও আবহাওয়ার অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
- আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে কৃষি ও পানি সংকট বাড়তে পারে।
- ভারতীয় উপমহাদেশে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে।
জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনো একা নয়; বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে মিলেই এটি চরম আবহাওয়াকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। সাম্প্রতিক ইউরোপীয় তাপপ্রবাহ ও দাবানলের পেছনেও মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং জাতিসংঘ সরকারগুলোকে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার, দুর্যোগ প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো প্রস্তুতি নিলে এল নিনোর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
আরও পড়ুন:







