মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে কুয়েত। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা একাধিক শত্রু ড্রোন শনাক্ত করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে সফলভাবে প্রতিহত করেছে। হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে কিছু স্থানে সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও সেগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার ফল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কুয়েত-ইরাক সীমান্তের আবদালি (Abdali) ক্রসিংয়ের আশপাশে ড্রোন হামলার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এর আগে একই সীমান্ত ক্রসিংয়ে ড্রোন হামলায় কিছু অবকাঠামোর ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সীমান্ত ক্রসিংটি পুনরায় চালু করা হয়।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, বিভিন্ন ঘাঁটির যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান আশ্রয়কেন্দ্র এবং সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্ভব হয়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কুয়েতে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে দেশটির সরকার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা এবং জরুরি প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে।
কুয়েত সরকার নাগরিকদের গুজবে কান না দিয়ে কেবল সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো নতুন হুমকি মোকাবিলায় দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরও পড়ুন:







