বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে একযোগে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত দ্রুত কমে আসছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও কংগ্রেস-সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট (Patriot), THAAD, SM-3 এবং SM-6-এর মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি পূরণ করতে উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী প্রায় তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহায়তা, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত হামলা মোকাবিলা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাসে মার্কিন বাহিনী শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা বিদ্যমান মজুত দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ, উচ্চপ্রযুক্তির সেন্সর এবং দীর্ঘ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। ফলে চাহিদা বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। নতুন উৎপাদন লাইন চালু, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং বেসরকারি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পেতে সময় লাগবে।
এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য সতর্ক করে বলেছেন, যদি একাধিক অঞ্চলে একই সময়ে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়, তাহলে বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা মজুতের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি শুধু দেশটির নয়, তার মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







