ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তাদের সাম্প্রতিক সামুদ্রিক হুমকির কারণে সৌদি আরবের আটটি তেলবাহী ট্যাংকার নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হয়েছে। হুতিদের ভাষ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের অবরোধ এবং হামলার আশঙ্কার কারণেই জাহাজগুলো দীর্ঘ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে।
সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে একাধিক সৌদি ট্যাংকার লোহিত সাগরের পরিবর্তে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে চলাচল করছে। এই পথ ব্যবহারে যাত্রাপথ কয়েক হাজার কিলোমিটার বেড়ে যায়, ফলে পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের সময় উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
হুতিরা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তারা সৌদি আরবের বন্দরগামী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে। এর আগে তারা দুইটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিও করেছিল, যদিও এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান নিরাপত্তা সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের রপ্তানি জাহাজগুলোকে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হলে তেল পরিবহনের খরচ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
নৌ-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যাতায়াত করলে একটি ট্যাংকারের যাত্রায় অতিরিক্ত এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এর ফলে জ্বালানি পরিবহন ব্যয়, বীমা খরচ এবং জাহাজ পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরব সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদারে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে টহল বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরও পড়ুন:







