ভারতের গুজরাট রাজ্যের আনন্দ জেলায় মধ্যরাতে কুকুরের একটানা ঘেউ-ঘেউ শব্দে ঘুম ভেঙে যায় এক কৃষকের। বিষয়টি দেখতে বাড়ির বাইরে বের হয়ে বাথরুমের দরজা খুলতেই তিনি দেখতে পান প্রায় ৭ ফুট লম্বা একটি কুমির ভেতরে বসে রয়েছে। অপ্রত্যাশিত এই দৃশ্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পুরো পরিবার। ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে আনন্দ জেলার সোজিত্রা তালুকার একটি গ্রামে। বাড়ির মালিক বালাভাই চৌহান জানান, রাত প্রায় দেড়টার দিকে বাড়ির বাইরে কুকুরগুলোর অস্বাভাবিক চিৎকার শুনে তিনি ঘুম থেকে ওঠেন। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে বাথরুমের দিকে গিয়ে দরজা খুলতেই বিশাল আকৃতির কুমিরটি দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে বন বিভাগকে খবর দেন।
খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মী এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর বিশেষ দড়ি ও উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে কুমিরটিকে নিরাপদে আটক করা হয়। পরে সেটিকে নিকটবর্তী একটি জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়। উদ্ধার অভিযানে কোনো ব্যক্তি বা কুমিরের ক্ষতি হয়নি।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বর্ষাকালে জলাশয়ের পানি বেড়ে গেলে কুমিরগুলো প্রাকৃতিক আবাসস্থল ছেড়ে আশপাশের জনবসতিতে চলে আসে। খাবারের সন্ধান এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা অনেক সময় বাড়িঘর, রাস্তা কিংবা আঙিনায় ঢুকে পড়ে। আনন্দ জেলার মালাতাজ গ্রামের একটি পুকুরে শতাধিক কুমির রয়েছে, ফলে ভারী বৃষ্টির সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এ ঘটনার পর বন বিভাগ স্থানীয় বাসিন্দাদের রাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়া, বাড়ির আশপাশে সতর্ক থাকা এবং কোথাও কুমির দেখতে পেলে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি নিউজ
আরও পড়ুন:







