দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর বিখ্যাত নাজকা লাইনস (Nazca Lines) পরিদর্শনে যাওয়া পর্যটকবাহী একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সব ১৩ আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বিদেশি পর্যটক এবং দুইজন ক্রু সদস্য রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুরে এরোডিয়ানা (Aerodiana) পরিচালিত একটি সেসনা গ্র্যান্ড ক্যারাভান সি-২০৮ (Cessna Grand Caravan C-208) বিমানটি পিসকো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে দর্শনীয় ফ্লাইট পরিচালনা করছিল। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই পাইলট জরুরি অবস্থার সংকেত পাঠান। এরপর বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে নাজকা শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরের পুয়েবলো ভিয়েখো (Pueblo Viejo) এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়, ফলে আরোহীদের কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন ইতালির, দুজন জার্মানির এবং দুজন স্পেনের নাগরিক। এছাড়া পেরুর একজন পাইলট ও একজন সহ-পাইলটও নিহত হয়েছেন। নিহতদের বয়স ১৮ থেকে ৭৮ বছরের মধ্যে।
পেরুর পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কমিশন যৌথভাবে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই অঞ্চলে প্রবল বাতাস ও দৃশ্যমানতা কম থাকায় দর্শনীয় ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছিল।
বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নাজকা লাইনস দেখতে প্রতিবছর হাজারো পর্যটক ছোট বিমানে আকাশপথে ভ্রমণ করেন। অতীতেও এই এলাকায় একাধিক ছোট বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে, যা পর্যটন ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







