পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের সোয়াত জেলার কাবাল এলাকায় একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য এবং নয়জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত ২০–২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রোববার (২ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেলে কাবাল পুলিশ স্টেশনের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী ও পুলিশ সমর্থনকারী একটি জনসমাবেশ চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আত্মঘাতী হামলাকারী জনসমাবেশকে লক্ষ্য করেই বিস্ফোরণ ঘটায়।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থল রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত আহতদের সোয়াতের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক তদন্তও শুরু হয়েছে।
নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে টিটিপির হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এ হামলাকে নৃশংস আখ্যা দিয়ে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







