উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় (Ceuta) অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ১,৬৪০ ফুট (প্রায় ৫০০ মিটার) দীর্ঘ ভাসমান সামুদ্রিক বাধা স্থাপন করেছে স্পেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মরক্কো থেকে নজিরবিহীন সংখ্যক অভিবাসী সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাসমান বাধাটি বায়ুভর্তি (পনিউম্যাটিক) ভাসমান অংশ, নৌ-বয়া এবং টহল চলাচলের উপযোগী কাঠামো দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সমুদ্রপথে অবৈধভাবে সেউতায় প্রবেশ কঠিন করে তোলা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি আরও কার্যকর করা।
গত সপ্তাহে মরক্কো থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে সেউতায় ঢোকার চেষ্টা করেন। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পদদলিত হওয়া ও সাগরে ডুবে যাওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭২ জনে পৌঁছায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি অভিবাসী স্বেচ্ছায় বা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মরক্কোতে ফিরে গেছেন। এরপর সীমান্ত পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নতুন করে বড় ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
এই সংকটের জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার দাবিও জোরালো হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, সেউতায় অভিবাসীদের এই ঢল মূলত মানবপাচারকারী চক্রের ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের ফল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অনিয়মিতভাবে স্পেনে প্রবেশ করলেই ইউরোপের অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ মিলবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সরকার সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







