ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর হামলায় প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের একটি বোমা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সম্ভবত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০০ কেজি) ওজনের মার্ক-৮৪ (Mark 84) বোমা হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। স্যাটেলাইট ছবি, ভিডিও ফুটেজ ও বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছেন, হামলায় বড় ধরনের প্রচলিত বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাটি একটি পরিবারের বাড়িতে আঘাত হানে। এতে এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের আরও দুই শিশু ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন জানিয়েছে।
হামলার পর এলাকাটিতে বড় ধরনের গর্ত তৈরি হয় এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। কিছু প্রতিবেদনে প্রায় ২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ সাধারণভাবে জানিয়েছে, তাদের অভিযানগুলো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয় না। তবে কেশম দ্বীপের এই হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কেশম দ্বীপ হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত হওয়ায় সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে এর গুরুত্ব অনেক। এই অঞ্চলে যেকোনো বড় সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
বেসামরিক এলাকায় ভারী বোমা ব্যবহারের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের আলোচনাকেও নতুন করে সামনে এনেছে। তবে হামলার পূর্ণ পরিস্থিতি, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং দায়-দায়িত্ব নিয়ে স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
সূত্র: দ্য জেরুসালেম
আরও পড়ুন:







