দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুদ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এক শীর্ষ মার্কিন জেনারেল। তাঁর সতর্কবার্তায় উঠে এসেছে, বর্তমান হারে অস্ত্র ব্যবহার ও সরবরাহ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ (Alexus Grynkewich) প্রশাসনকে জানিয়েছেন যে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁর মূল্যায়নে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে নিজস্ব ভূখণ্ডের নিরাপত্তা এবং মিত্রদের প্রতিরক্ষার মধ্যে কঠিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেনকে ব্যাপক অস্ত্র সহায়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানের কারণে প্যাট্রিয়ট ও THAAD-এর মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যমান মজুদ দ্রুত কমে আসছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইতোমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি কয়েক বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তির মাধ্যমে প্যাট্রিয়ট ও THAAD ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনও দ্রুত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত নয়; বরং একাধিক সংঘাতের কারণে উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্রের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ও উৎপাদন সক্ষমতার ওপর চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই পেন্টাগন এখন দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ মজুদ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







