ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার নির্ভুল হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের (Long-range Precision Missiles) মজুদ প্রায় শেষের দিকে পৌঁছেছে বলে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে চীন বা রাশিয়ার মতো সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক হারে ATACMS (Army Tactical Missile System) এবং নতুন প্রজন্মের Precision Strike Missile (PrSM) ব্যবহার করেছে। ফলে এই অস্ত্রগুলোর মজুদ এতটাই কমে গেছে যে, দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি বড় সংঘাতে দ্রুত সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
শুধু আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ Patriot এবং THAAD ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে Patriot-এর প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং THAAD-এর প্রায় ৩৮ শতাংশ মজুদ ব্যবহার হয়ে গেছে।
এদিকে পেন্টাগন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং অস্ত্র উৎপাদনের গতি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যবহৃত মজুদ দ্রুত পূরণ করা যায়।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। ফলে যুদ্ধ চলমান থাকলে মজুদ পুনর্গঠনে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ও বৈশ্বিক সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই পরিস্থিতি শুধু ইরান যুদ্ধের প্রভাবই নয়; একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দিচ্ছে যে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চমাত্রার সংঘাতে উন্নত অস্ত্রের বিপুল ব্যবহার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর জন্যও বড় ধরনের লজিস্টিক ও সরবরাহ চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







