তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত কোরীয় উপদ্বীপে গরম মোকাবিলায় নাগরিকদের জন্য প্রচলিত কিছু খাবারের পরামর্শ দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এর মধ্যে রয়েছে কুকুরের মাংসের স্যুপ, যা দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিবর্ধক খাবার হিসেবে পরিচিত।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদপত্র Rodong Sinmun-এ প্রকাশিত স্বাস্থ্য পরামর্শে পিয়ংইয়ং জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রচণ্ড গরমে শরীরের শক্তি ধরে রাখতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। সেখানে কুকুরের মাংসের স্যুপ (স্থানীয়ভাবে ‘ডাংগোগি’) ছাড়াও মাছের পায়েস, তরমুজ, শসা, টমেটো, মুগ ডাল ও আদার মতো খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার সংস্কৃতিতে ডাংগোগি বহুদিন ধরে গ্রীষ্মের সবচেয়ে গরম সময়ের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। দেশটির প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই খাবার শরীরের দুর্বলতা কাটাতে ও শক্তি বাড়াতে সহায়ক।
তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় কুকুরের মাংস খাওয়াকে বিশেষভাবে কার্যকর প্রমাণ করার মতো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই; পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়ায় থাকা এবং শরীর ঠান্ডা রাখা তাপজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধের মূল উপায় হিসেবে বিবেচিত।
এই পরামর্শ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন উত্তর-পূর্ব এশিয়ার বড় অংশ রেকর্ড তাপপ্রবাহের মুখে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে এবং তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
কুকুরের মাংস খাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত। দক্ষিণ কোরিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রথার বিরুদ্ধে জনমত বেড়েছে এবং দেশটি কুকুরের মাংস শিল্প বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ায় এটি এখনও ঐতিহ্যবাহী খাবারের অংশ হিসেবে কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয়াবহ গরমে সবচেয়ে জরুরি হলো শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা, অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলা এবং বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন নেওয়া।
সূত্র: এপি নিউজ
আরও পড়ুন:







