আর্থিক সুবিধা অব্যাহতভাবে পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের মায়ের মরদেহ প্রায় তিন বছর ধরে বাড়ির ফ্রিজারে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের এক ব্যক্তিকে দুই বছর চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তিনি মায়ের মৃত্যুর খবর গোপন রেখে সরকারি ভাতা ও পেনশন আত্মসাতের দায়ও স্বীকার করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ক্রিস্টোফার ফিলিপস (৬০) দক্ষিণ ওয়েলসের পোর্থকওল এলাকায় তার ৮৯ বছর বয়সী মা সিলভিয়া ফিলিপসের সঙ্গে বসবাস করতেন। আদালতে জানানো হয়, ২০২৩ সালের মার্চে মায়ের মৃত্যুর দুই দিনের মধ্যেই তিনি একটি বড় চেস্ট ফ্রিজার কিনে মরদেহ সেখানে সংরক্ষণ করেন। এরপর প্রায় তিন বছর তিনি মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখেন।
মায়ের মৃত্যুর খবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ক্রিস্টোফার ফিলিপস তার নামে রাষ্ট্রীয় পেনশন, পেনশন ক্রেডিট, অ্যাটেনডেন্স অ্যালাউন্স, হাউজিং বেনিফিট, শীতকালীন জ্বালানি ভাতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সহায়তাসহ মোট ৭৮,১৯০.৯২ পাউন্ড গ্রহণ করেন। আদালত এই অর্থ আত্মসাৎকে গুরুতর প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করে।
চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন সিলভিয়া ফিলিপসের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ তার বাসায় কল্যাণমূলক (welfare) পরিদর্শনে যায়। তখন ক্রিস্টোফার দাবি করেন, তার মা লন্ডনে আত্মীয়দের কাছে আছেন। কিন্তু তার বক্তব্যে অসংগতি দেখে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে বসার ঘরের ফ্রিজারের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ফ্রিজারের ওপর ফুল এবং একটি জন্মদিনের কার্ডও পাওয়া যায়।
মার্থির টিডফিল ক্রাউন কোর্টে ক্রিস্টোফার ফিলিপস মরদেহের আইনসম্মত দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া এবং প্রতারণার দুটি অভিযোগ স্বীকার করেন। বিচারক ট্রেসি লয়েড-ক্লার্ক তাকে দুই বছর চার মাসের কারাদণ্ড দেন। আদালত মন্তব্য করেন, দীর্ঘ সময় ধরে মৃত্যু গোপন রাখা এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থ গ্রহণ অপরাধের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আসামিপক্ষ আদালতে জানায়, ক্রিস্টোফার তার মায়ের প্রধান পরিচর্যাকারী ছিলেন এবং মায়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদনে তার দীর্ঘস্থায়ী শোকজনিত মানসিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হলেও আদালত বলেন, তা প্রতারণার দায় থেকে তাকে অব্যাহতি দেয় না।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর ক্লেয়ার ল্যামার্টন ঘটনাটিকে "অত্যন্ত দুঃখজনক" উল্লেখ করে বলেন, অভিযুক্ত দীর্ঘ সময় নিজের মায়ের মৃত্যু গোপন রেখে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিহতের স্বজনরা অবশেষে তাকে যথাযথভাবে দাফন করতে পেরে কিছুটা হলেও শান্তি পেয়েছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরও পড়ুন:







