প্রায় তিন বছর পর গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একই পরিবারের ১১২ জনের মরদেহ। বুধবার (৫ আগস্ট) গাজা সিটিতে তাদের গণদাফন সম্পন্ন হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এটিকে চলমান গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় গণদাফনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর গাজা সিটির সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। ওই হামলায় আল-হাসাইনা (আবু শারিয়া) বংশের অন্তত ৩০৮ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। সে সময় অনেক মরদেহ উদ্ধার করা হলেও ১৫৩ জন ধ্বংসস্তূপের নিচেই রয়ে যান।
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর সীমিত সুযোগে গাজার সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা ১৭ দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালান। প্রায় ৪০ জন উদ্ধারকর্মীর অংশগ্রহণে পরিচালিত এই অভিযানে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১২টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত সামগ্রী, পোশাক, অলংকার এবং অন্যান্য শনাক্তযোগ্য উপাদান ব্যবহার করা হয়।
বুধবার শতাধিক কফিন একসঙ্গে নিয়ে গাজা সিটিতে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। নিহতদের স্বজনেরা বলেন, দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর প্রিয়জনদের মরদেহ দাফনের সুযোগ পেলেও এই দিন তাদের পুরোনো ক্ষতকে আবারও জাগিয়ে তুলেছে।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। ভারী যন্ত্রপাতির অভাব, বিপুল ধ্বংসস্তূপ এবং সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে।
এদিকে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজাজুড়ে এখনও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ সরানো বাকি রয়েছে। উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত সহায়তার অভাবে বহু পরিবার এখনো তাদের স্বজনদের দাফনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







