অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া উচ্চ সংক্রামক এইচ৫এন১ (H5N1) বার্ড ফ্লুর কারণে দেশটির বিখ্যাত ‘লিটল পেঙ্গুইন’ বা ক্ষুদ্র পেঙ্গুইনের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভাইরাসটি বড় উপনিবেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে কিছু এলাকায় পেঙ্গুইনের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মারা যেতে পারে।
বিশেষ করে মেলবোর্নের সেন্ট কিলডা এবং ভিক্টোরিয়ার অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলের লিটল পেঙ্গুইন কলোনিগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ উপনিবেশে একবার সংক্রমণ শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক পাখির মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ার সরকার, চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বার্ডলাইফ অস্ট্রেলিয়ার যৌথ ঝুঁকি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এইচ৫এন১ ভাইরাসের কারণে দেশটির প্রায় ৪০০ প্রজাতির দেশীয় পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী উচ্চ বা চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এর মধ্যে ৮০টিরও বেশি বিপন্ন ও মহাবিপন্ন প্রজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
সম্প্রতি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫এন১ ভাইরাসে বন্য সামুদ্রিক পাখির প্রথম গণমৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে এবং বন্যপ্রাণীর মধ্যে আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক পোলট্রি খামারে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
সংরক্ষণবিদরা বলছেন, লিটল পেঙ্গুইনের পাশাপাশি সিল, ডলফিন, সামুদ্রিক পাখি এবং আরও বহু দেশীয় প্রাণী এই ভাইরাসের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। তারা সরকারকে নজরদারি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী সংরক্ষণ এবং জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র:দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
আরও পড়ুন:







