ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) কঙ্গো নদীতে চলাচলকারী একটি নৌকার প্রায় ২০০ যাত্রীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। নৌকাটির এক যাত্রী ইবোলার মতো উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি কঙ্গো নদীপথে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে যাত্রা করছিল। যাত্রাপথে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। তার শরীরে ইবোলার সঙ্গে মিল থাকা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর নৌকার অন্য যাত্রীদের শনাক্ত করে তাদের পরীক্ষা করা হয় এবং ফলাফল না আসা পর্যন্ত আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ডিআর কঙ্গো বর্তমানে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মোকাবিলা করছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ এবং চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বান্দিবুগিও (Bundibugyo) ধরনের ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ চলছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নদীপথে মানুষের চলাচল বেশি হওয়ায় সংক্রমণের সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত শনাক্তকরণ ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে উপসর্গ না থাকলেও নৌকার যাত্রীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইবোলার পাশাপাশি কঙ্গো অঞ্চলে কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ নিয়েও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে। নদীনির্ভর জনজীবনে বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যবিধি এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোয়ারেন্টাইনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে অনেকের এখনো কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে ইবোলার ক্ষেত্রে সংক্রমণের শুরুতে লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে, তাই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া হবে।
আরও পড়ুন:







