News Ticker
221.png

বাবার শেষকৃত্যেও বৃদ্ধাশ্রমে এলেন না শিক্ষিত ৩ সন্তান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫৫

শেয়ার

শেয়ার

বাবার শেষকৃত্যেও বৃদ্ধাশ্রমে এলেন না শিক্ষিত ৩ সন্তান
ছবি: সংগৃহীত

ক হৃদয়বিদারক ঘটনায় ফের সামনে এলো প্রবীণদের প্রতি পারিবারিক অবহেলার নির্মম চিত্র। মুম্বাইয়ের এক প্রাক্তন কাপড় ব্যবসায়ীর মৃত্যু হলে তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত হননি তিন শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত কন্যার কেউই। শেষ পর্যন্ত হরিয়ানার সোনিপতের একটি বৃদ্ধাশ্রমের কর্মী ও স্থানীয় সমাজকর্মীরাই তাঁর শেষকৃত্যের সমস্ত দায়িত্ব পালন করেন।

মৃত ব্যক্তির নাম শিবচরণ রতন গুপ্ত (৭২)। বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি একসময় মুম্বাইয়ে সফল কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসায় লোকসানের পর স্ত্রীকে নিয়ে হরিয়ানায় চলে আসেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি সোনিপতের একটি বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস শুরু করেন। তাঁর তিন মেয়ে—একজন মুম্বাইয়ে, একজন নেপালে এবং আরেকজন উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে থাকেন।

বৃদ্ধাশ্রমের ম্যানেজার আনন্দ কুমারের দাবি, মেয়েরা বাবাকে নিজেদের কাছে রাখতে চাইলেও তিনি কারও সংসারে বোঝা হতে চাননি। তাই স্বেচ্ছায় বৃদ্ধাশ্রমেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

মৃত্যুর আগে শিবচরণ গুপ্ত তাঁর দেহ ও চোখ দানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর চোখ একটি দিল্লিভিত্তিক চক্ষু হাসপাতালে দান করা হয়। পরে বৃদ্ধাশ্রমের কর্মী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।

খবরে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা শেষকৃত্যে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁরা ভিডিও কলের মাধ্যমে শেষকৃত্য দেখেন। বড় মেয়ে শেষকৃত্যের খরচ বাবদ ৫,১০০ রুপি পাঠিয়েছিলেন, যদিও বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ পরে সেই অর্থ ফেরত দেয়।

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে আধুনিক সমাজে প্রবীণদের একাকীত্ব ও পারিবারিক দায়বদ্ধতার অবক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করছেন।

সূত্র: নিউ কেরালা 

ChannelNRB Footer