সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে নিজের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রা জেলার এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় অভিযুক্ত বাবার সঙ্গে তার জামাতাও জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত তরুণীর বয়স ১৮ বছর। তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দিল্লি থেকে আগ্রার বাসাউনি গ্রামে নিয়ে আসেন। এরপর চম্বল নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে তাকে মৃত্যুবরণ অথবা ‘পারিবারিক সম্মান রক্ষা’র নামে সামাজিক লজ্জা—এই দুইয়ের মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে তাকে নদীতে ঠেলে ফেলে হত্যা করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে বাবাকে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে তরুণীর জামাতার বিরুদ্ধেও। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মেয়ের গর্ভধারণের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় পরিবারের ‘সম্মানহানি’ হবে—এই আশঙ্কা থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘অনার কিলিং’ (সম্মান রক্ষার নামে হত্যা) হিসেবে বিবেচনা করছেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: দা টাইমস অফ ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:







